উইয়ের অন্যতম একটি টার্গেট হচ্ছে মানুষের ট্রান্সফর্মেশন।
আমরা খুব কম সংখ্যক মানুষই আসলে যোগ্য। কারণ আমাদের পড়াশুনার সিস্টেমের মধ্যে খুব বড় একটা গলদ আছে। সার্টিফিকেট পেছনে দৌড়াতে গিয়ে আমরা আমাদের উদ্দেশ্যটাই ভুলে গিয়েছি। আমাদের মধ্যে বেকারত্বের হার শিক্ষিতদের মধ্যেই বেশি, কারণ যাদের সার্টিফিকেট নেই তারা কোন কাজকেই ছোট করে দেখে না। কিন্তু তথাকথিত সার্টিফিকেটওয়ালা শিক্ষিতদের মধ্যে প্রেস্টিজের ভয় অনেক বেশি। গ্রামাঞ্চলের প্রচলিত প্রবাদের মতো ‘এরা হাইলাও হয় না, জাইলাও হয় না’। আমাদের মধ্যে গভীর বিশ্বাস ‘মামা-চাচা’ ছাড়া চাকরি হয় না। নিজের অযোগ্যতাকে তো আমরা স্বীকারই করিই না, বরং পারিপার্শ্বিক অবস্থাকে দোষারোপ করি।
রবীন্দ্রনাথের একটি কবিতা আছে “জুতা আবিষ্কার”। কবিতার সারমর্মটা ছিল এরকম যে, রাজার পায়ে ধুলা যাতে না লাগে এ সমস্যা সমাধানের জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া হল “চর্ম দিয়া মুড়িয়া দাও পৃথ্বী”। অথচ রাজার পায়ে জুতা পড়ালেই এর সমাধান হয়ে যায়। আমরা আশেপাশের অবস্থাকে যতটা দায়ী করি সে তুলনায় নিজের অবস্থার জন্য নিজেকে দায়ী করতে আমরা না রাজ। অথচ সারা পৃথিবীতে যারা অসাধারণ কিছু করেছে তাদের বেশিরভাগই সুবিধাবঞ্চিত। পারিপার্শ্বিকতাকে দোষারোপ না করে নিজের করণীয় দিকগুলোতে ফোকাস করা উচিৎ।
আমরা নিজেকে যদি প্রশ্ন করি, “আজকে আমার বর্তমান নিজের অবস্থান নিয়ে আমি কি সন্তুষ্ট?” বেশিরভাগ মানুষই হয়তো “না” বলব এবং এর জন্য খুব কম মানুষই নিজেকে দায়ী করব। আমাদের সবসময়ই বাইরের দোষগুলোই শুধু চোখে পড়ে, অথচ নিজেকে আমরা নিজেরাই খুব কম মানুষ চিনি। নিজের দুর্বলতা, নিজের পারদর্শিতার দিকগুলো আমরা নিজেরা খুব একটা জানি না, কিন্তু অন্যের সমালোচনা খুব ভালোই পারি। যেদিন থেকে আমরা সমস্যার পেছনে নিজের অবস্থানকে জড়িত করতে পারব, নিজের নূন্যতম হলেও করনীয় জায়গাকে চিহ্নিত করতে পারব, সেদিন থেকে আমাদের নিজেদের অবস্থানকে পরিবর্তন করা সম্ভব হবে। নিজের কাঁধে দোষ নেয়াটা খুব জরুরী; “আজকের পরিস্থিতির জন্য আমি নিজেও দায়ী”-এই উপলব্ধিটা অন্তত আমাদের থাকা উচিৎ।


